1. [email protected] : admi :
  2. [email protected] : admin admin : admin admin
  3. [email protected] : atayur :
  4. [email protected] : Toufiq Hassan : Toufiq Hassan
  5. [email protected] : News Reporter :
ডাক্তার মায়ের করুন আকুতি,চোখের সামনে মারা গেলো ডাক্তারী পড়ুয়া ছেলে
শুক্রবার, ০১ জুলাই ২০২২, ১০:২১ অপরাহ্ন

ডাক্তার মায়ের করুন আকুতি,চোখের সামনে মারা গেলো ডাক্তারী পড়ুয়া ছেলে

Desk Report
  • Update Time : শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২০
  • ২৯৫ Time View

ডাক্তারী চতুর্থ বর্ষে পড়ুয়া সালমান বের 'হতো নাঘরে থেকেও সে করো'নায় মা'রা গেলো করুন ভাবেগাইনোলজি প্রফেসর ডাক্তার শবনম তাহেরের চতুর্থ বর্ষে ডাক্তারী পড়ুয়া ছেলে। লেখাপড়া ও খেলাধূলায় সমান মেধাবী। বাবাও ডাক্তার। করো'না আ'ক্রা'ন্ত হওয়ার পর মাত্র সাতদিনেই মা'রা গেলো সালমান।ছেলের মৃ'ত্যু নিয়ে
মা শবনমের হৃদয় ছোঁয়া স্ট্যাটাসঃ—গতকাল-আমা'দের ডাক্তারী পড়ুয়া মাত্র ২১ বছরের প্রিয়তম সন্তানকে হারিয়েছি। এর চেয়ে বেদনার দিন কোনো মায়ের এই পৃথিবীতে নেই। প্রচন্ড শোকের মাঝে অন্য সব মায়েদের এই বার্তা দেয়ার একমাত্র কারণ হলো- আর কোনো মাকে যেন এইভাবে তার সন্তানকে হারাতে না হয়।

আমি শুধু মা না। আমি একজন ডাক্তার। আমা'র স্বামীও ডাক্তার। মাত্র ২১ বছরে আমা'দের শোকের মাঝে রেখে চিরতরে চলে যাওয়া আমা'র ছেলেও মেডিকেল কলেজে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী।আমা'র ছেলের শারীরিক কোনো সমস্যা ছিলো না। একজন স্বাস্থ্যবান তরতাজা যুবক ছিলো। প্রচণ্ড মানসিক, শারীরিক শক্তি ছিলো। বন্ধুবৎসল ছিলো। সবসময় প্রাণোচ্ছল ছিলো। পাশাপাশি সে তুখোড় মেধাবী একজন ছাত্র ছিলো। মা-বাবার মতো ডাক্তার হওয়ার স্বপ্নে তার অধ্যয়নে কোনো ঘাটতি ছিলো না। কিন্তু মাত্র ৭২ ঘন্টার মাঝে আমা'দের জীবনের সবকিছু উলট-পালট হয়ে গেলো।লকডাউনে সে কোথাও যায়নি। মাত্র দুবার পাঁচ মিনিটের জন্য নিজের গাড়িতে করে বাইরে যায়। আর ঘরে ফেরার সাথে-সাথে নিজের শরীরকে ভালো করে ধৌত করে। সচেতনতার কোনো ঘাটতি ছিলো না-আমা'দের পরিবারে। যেহেতু সে নিজেই ডাক্তারী পড়ছে আর আমর'া ডাক্তারী পেশায় আছি।

ঈদের আগের দিন রাতে সে দুই বন্ধুর সাথে – বড়জোড় দুই-আড়াই ঘন্টার জন্য বাইরে যায়। এর পর ঘরে এসে গোসল করে শুতে যায়। পরদিন সকালে সে সামান্য মাথা ব্যথা নিয়ে ঘু'ম থেকে ওঠে। আমি ওকে Panadol tablet খেতে দেই।মাথা ব্যথা না কমলে- চারপাশে ঘটা বর্তমান পরিস্থিতির কথা চিন্তা করে আমি ওর শরীরের তাপমাত্রা নেই। দেখি ৯৯ ডিগ্রি। সাথে সাথে ওকে আমি অন্য একটা ঘরে আলাদা করে দেই। চব্বিশ ঘন্টার ভিতরে ওর শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে হয় ১০১ । আমি ওকে Panadol+Brufen দেই। সে তার ঘাড়েও ব্যথা অনুভব করে। আমা'র Pediatrician স্বামী মনে করেন -ছেলের হয়তোবা Meningitis 'হতে পারে। কিন্তু ওর কোনো বমি বা বমির কোনো ভাব নেই। আমর'া দ্রুত টেস্টের জন্য ব্লাড স্যাম্পল পাঠাই এবং ডাক্তাররা বলেন -ওর Bacterial Meningitis হয়েছে এবং এন্টিবায়োটিকস দেয়া শুরু করি এবং আধ ঘন্টার ভিতরে ওকে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করি।সবসময় আমি ওর সাথে ছিলাম। ওর কোনো ঠাণ্ডা, গলা ব্যথা, কাশি, বুক ব্যথা, পেট ব্যথা এসবের কিছুই ছিলোনা। ডাক্তাররা মনে করছেন-Meningitis ই হয়েছে। নিউরোসার্জন এসে দেখে গেলেন- এবং CT স্ক্যান করা হলো নিশ্চিত 'হতে আমা'র ছেলের অন্য কোনো সমস্যা নেই। এ সময় লক্ষ করলাম ওর একটা চোখের কিছু অংশ ফোলা।

বুকের এক্সরে করে দেখা যায় ছোট একটা দাগ। ইতোমধ্যে কোভিডের রেজাল্ট আসে। আমা'র ছেলে করো'নায় আ'ক্রা'ন্ত। পরের ৮- ১০ ঘন্টা ছিলো জীবনের দুঃসহ যন্ত্রণার দিন। ওর হার্ট রেট, রেসপাইরেটরি রেট বাড়ছেই, অক্সিজেন লেভেল ড্রপ করছে। প্রতি মুহুর্তে মুহুর্তে ছেলে আমা'দের চোখের সামনে মৃ'ত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আমর'া কেউ কিছুই করতে পারছিন'া। কিছু বুঝে ওঠার আগে ছেলে চোখ বন্ধ করে। ও আমা'দের ছেড়ে চলে যায়।ইতোমধ্যে আমা'র স্বামীরও করো'না পজিটিভ রেজাল্ট আসে। তাকেও আলাদা করা হয়। মেডিকেল প্রসিডিউর অনুযায়ী আমা'র সন্তান সালমানের জানাজা, দা'ফন হয়। কাউকে জড়িয়ে ধরে যে কাঁদবো -সেই সুযোগও হয়না।

কেউ হাসপাতালে ওয়ার্ডে ভর্তি হচ্ছে । কেউ লা'শের গাড়িতে করে সরাসরি কবরস্থান, শশ্মানে চলে যাচ্ছে। কারো পাশে কেউ নেই। আমা'র সন্তানকে তো আমর'া হারিয়েছি। এই শোক এই পৃথিবীতে আর কোনোদিনও কাটিয়ে উঠতে পারবোনা। তাই, নিজের সন্তানকে হারানোর আগে দয়া করে আমা'র কথাগু'লো শুনুন।এক) ভুলেও মনে করবেন না যে- আপনার করো'না হবেনা। আপনার নিজের না হলেও হয়তোবা আপনি করো'না ভাইরাসের বহনকারী হবেন। আমা'দের যেটা মনে হচ্ছে- আমি আর আমা'র স্বামী প্রতিদিন নিজ নিজ কাজে গেছি। আর হয়তোবা আমর'া নিজেরাই আমা'দের সন্তানের জন্য বহন করে নিয়ে এসেছি। আর বেচারা ঘরে বসে থেকেই আমা'দের কাছ থেকে ভাইরাসে আ'ক্রা'ন্ত হয়েছে।দুই) এখনো সময় আছে সতর্ক হোন। অধৈর্য্য হয়ে ঢিলেঢালা হয়ে চলাটা আপনার জন্য ঠিক মনে করলেও ভাইরাস কিন্তুু সেটা মনে করছে না। তাই, যাব'তীয় জনসমাগম এড়িয়ে চলুন। এখন জীবনের তাগিদে যদি কাউকে বাইরে যেতে হয়- সেক্ষেত্রে কি বলা দরকার সেটা আমা'র জানা নেই।

তিন) একজন ডাক্তার হিসাবে infertility treatment’র জন্য আমি প্রতিদিন ফোন কল পাচ্ছি। আপনাদের প্রতি বিনীত অনুরোধ দশবছর অ'পেক্ষা করতে পেরেছেন। সারা জীবন নিজের জন্য বাঁচতে এবং অন্যকে বাঁচাতে কেন মাত্র আরো ছয়টি মাস অ'পেক্ষা করতে পারছেন না। প্লিজ ধৈর্য্য ধরুন।চার) সরকারের দেয়া নির্দেশনা খুবই কড়াকড়িভাবে মেনে চলুন। একজন আরেক জনকে দোষারুপ করলে কিছুই হবেনা। নিজ নিজ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্ক না হলে এই মৃ'ত্যু মহা'মা'রী আট'কানো যাব'ে না। হাসপাতালের যাব'তীয় সুযোগ সুবিধা পেয়ে, নিজে ডাক্তার, নিজের স্বামী ডাক্তার হওয়ার পরও আমা'দের সন্তানকে বাঁচিয়ে রাখতে পারিনি।পাঁচ) আপনাদের মাঝে যারা বলছেন- এসব মিথ্যা। শুধু টাকা আয় করবার কৌশল। তাদেরকে বলছি- আমা'দের সব সম্পত্তি দিয়ে দিতে চাই। শুধু আমা'দের সন্তানকে একটিবার ফিরিয়ে দিন।ছয়) যারা মনে করছেন- আমা'দের আর করো'না হবেনা। হওয়ার থাকলে এতোদিনে হয়ে যেতো। বিশ্বা'স করেন- কিছু বুঝে ওঠার আগেই জীবন শেষ হয়ে যাব'ে। কিছুই বুঝতে পারবেন না।জীবন-মর'ণ আমা'দের হাতে না। কিন্তু সাবধান থাকা আমা'দের হাতে। তাই, সতর্ক হোন, সাবধান হোন। আর কোনো মাকে যেনো আমা'র মতো হাহাকার করতে না হয়।“রাব্বুল আলামীন এই দুঃসময়ে সবার প্রতি সহায় হোন”
আপনার মন্তব্য লিখু'ন

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category
News Bulletin © All rights reserved 2021
Develper By ITSadik.Xyz