1. [email protected] : admi :
  2. [email protected] : admin admin : admin admin
  3. [email protected] : atayur :
  4. [email protected] : Author :
  5. [email protected] : Toufiq Hassan : Toufiq Hassan
  6. [email protected] : News Reporter :
ভারতীয় মিডিয়ার বাংলাদেশকে ‘খয়রাতি’ বলে কটাক্ষ
রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৮:৩৮ অপরাহ্ন

ভারতীয় মিডিয়ার বাংলাদেশকে ‘খয়রাতি’ বলে কটাক্ষ

Desk Report
  • Update Time : রবিবার, ২১ জুন, ২০২০
  • ২৩৯ Time View

সম্প্রতি সী’মান্তে চীনের স’'ঙ্গে উ’ত্তেজনায় জড়িয়েছে ভারত। ঠিক তখনই বাংলাদেশের ৯৭ শতাংশ পণ্য বিনা শুল্কে রফতানির সুযোগ দেয় চীন। স্বাভাবিকভাবেই এই সি’'দ্ধান্তকে স্বাগত জানায় বাংলাদেশ।

তবে চীনের এমন সি’'দ্ধান্তে জ্ব’লে উঠেছে ভারতীয় মিডিয়া। ভারতের কয়েকটি সংবাদমাধ্যম বাংলাদেশের প্রতি চীনের এই শুল্কমুক্ত বাণিজ্যরীতিকে ‘খয়রাতি’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশ ও চীনের সম্প’র্ক ‘নতুন উচ্চতায়’ পৌঁছে গেছে বলেও 'হতাশা প্রকাশ করেছে সংবাদ ছেপেছে সেখানে।

চীনের স’'ঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্প’র্ক দীর্ঘদিনের হলেও ভারতীয় মিডিয়া মনে করছে, নয়াদিল্লির স’'ঙ্গে উ’ত্তেজনার মধ্যে ঢাকাকে বাগে রাখার ‘টোপ’ এটি বেইজিংয়ের। তবে এটিকে ‘টোপ’ প্রমাণে প্রচারিত খবরে যাচ্ছেতাই শব্দের ব্যবহার করছে ভারতের অনেক আলোচিত সংবাদমাধ্যম।

আ’নন্দবাজার পত্রিকা এবং জি নিউজের বাংলা সংস্করণ ‘২৪ ঘণ্টা’র খবরে বি’ষয়টিকে ‘খয়রাতি’ বলেও আখ্যা দেয়া হয়েছে। আর এই ‘খয়রাতি’ শব্দটিই এখন ফেসবুকে তুমুল আলোচনায় রয়েছে। বি’ষয়টি ‘পরীক্ষিত বন্ধু রাষ্ট্রকে’ খাটো করার মানসে করা হয়েছে কি-না, সে প্রশ্নও উঠেছে বিভিন্ন মহলে।

গত শুক্রবার (১৯ জুন) বাংলাদেশের পররাষ্ট্র ম’ন্ত্রণালয় জানায়, চীনের বাজারে আরও পাঁচ হাজার ১৬১টি পণ্যের শুল্কমুক্ত রফতানি সুবিধা পেয়েছে বাংলাদেশ। এর মাধ্যমে দেশটিতে মোট শুল্কমুক্ত পণ্যের সংখ্যা দাঁড়াল আট' হাজার ২৫৬টি।

এর ফলে চীনে বাংলাদেশের মোট রফতানি পণ্যের ৯৭ শতাংশই শুল্কমুক্ত সুবিধার আওতায় এলো। ম’ন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা জানান, বাংলাদেশ এখন মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার পথে থাকলেও স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বাণিজ্যের ওই প্রাধিকারটি পেতে দীর্ঘদিন ধরে দুদেশের আলোচনা চলছিল। আর অতি সম্প্রতি এটি দিতে সম্মত হয় চীন স’রকার।

আগামী ১ জুলাই থেকে বেইজিং প্রদত্ত সুবিধার ওই ঘোষণা কার্যকর 'হতে যাচ্ছে। কিন্তু সী’মান্তে ভারতের সে’নাদের পে’টানো চীন কেন বাংলাদেশকে এই মুহূর্তে এমন সুবিধা দিলো, তা নিয়ে নাখোশ ভারতের গণমাধ্যম। সেই অসন্তোষই প্রকাশ পাচ্ছে তাদের প্রতিবেদনে।

“লাদাখের পরে ঢাকাকে পাশে টানছে বেজিং” শিরো'নামে আ’নন্দবাজার প্রতিকার খবরে বলা হয়েছে, ‘বাণিজ্যিক ল'গ্নি আর খয়রাতির টাকা ছড়িয়ে বাংলাদেশকে পাশে পাওয়ার চেষ্টা নতুন নয় চীনের। লাদাখে ভারতের স’'ঙ্গে সীমা'ন্ত-সং’ঘর্ষে উত্তাপ ছড়ানোর পরে ফের নতুন উদ্যমে সে কাজে নেমেছে বেজিং। শুক্রবার বাংলাদেশের জন্য বিশেষ সুবিধার কথা ঘোষণা করেছে তারা।

তাতে বাংলাদেশ থেকে রফতানি হওয়া অতিরিক্ত ৫১৬১টি পণ্যে শুল্ক না-নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশ থেকে চিনে রফতানি হওয়া পণ্যের ৯৭ শতাংশকেই শুল্কমুক্তির সুবিধা দিল বেজিং। জুলাইয়ের প্রথম দিন থেকে নতুন সি’'দ্ধান্তটি কার্যকর হচ্ছে।’ যদিও এ প্রতিবেদনে স্বীকার করা হয়, ‘বাংলাদেশ একমাত্র প্রতিবেশী দেশ, নানা টানাপড়েন সত্ত্বেও যাদের স’'ঙ্গে ভারতের একটা পরীক্ষিত সুসম্প’র্ক রয়েছে।

দক্ষিণে শ্রীলঙ্কা-মালদ্বীপ থেকে উত্তরে নেপাল-ভুটান, কারও স’'ঙ্গেই আর আগের উষ্ণ সম্প’র্ক নেই ভারতের।’ জি নিউজের বাংলা সংস্করণ ‘২৪ ঘণ্টা’র এ সংক্রা'ন্ত খবরের শিরো'নাম করা হয়, ‘ভারতকে চা’পে ফেলতে বাংলাদেশকে ‘খয়রাতি’ চিনের!’ প্রতিবেদনে বলা হয়, “নেপালের পর বাংলাদেশ।

ভারতের স’'ঙ্গে লড়াইয়ে পড়শিদের পাশে পাওয়ার চেষ্টা চা’লিয়ে যাচ্ছে চীন। বাংলাদেশ থেকে রফতানিকৃত ৯৭ শতাংশ পণ্যকেই শুল্কমুক্ত করার সি’'দ্ধান্ত নিয়েছে বেজিং।’ এখানে উল্লেখ্য, ‘খয়রাতি’ শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো ‘দানরূপে প্রা’'প্ত’।

অর্থাৎ কারও দানে বা দয়ায় যা পাওয়া যায়, তা-ই খয়রাতি। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপ-আমেরিকার বাজারে রফতানিসুবিধা পেয়ে আসছিল। মাঝে কিছু জটিলতার কারণে সে সুবিধায় ভাটা পড়েছে। সম্প’র্কের খাতিরে চীন আগে থেকেই বাংলাদেশের কয়েক হাজার পণ্যে এই রফতানিসুবিধা দিয়ে আসছে। সম্প্রতি সেই সুবিধার জায়গায় যোগ হলো আরও পাঁচ হাজারের বেশি পণ্য। বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক বোঝাপড়ার ফলে এ ধরনের সুবিধা পাওয়া যায় এবং চীন থেকে বাংলাদেশ সেটাই পেয়ে আসছে।

তাছাড়া দেশের পদ্মাসেতুসহ বহু মেগা প্রকল্পে চীন ও সেদেশের নানা কোম্পানি ওতপ্রোতভাবে জ’ড়িত। সে দিক বিবেচনায়ও বলা যায়, বেইজিংয়ের স’'ঙ্গে ঢাকার বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক যোগাযোগে বোঝাপড়া হুট করেই কয়েকদিনে হয়নি। তাহলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে কেন এ রফতানি সুবিধাকে ‘সীমা'ন্ত উ’ত্তেজনার প্রেক্ষাপটে’ দেখা হচ্ছে এবং তা-ও ‘খয়রাতি’ হিসেবে, তা নিয়েই আলোচনা সর্বত্র। এ বি’ষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাইফুল আলম চৌধুরী তার ফেসবুকে লেখেন, ‘খয়রাতির টাকা গ্রহণে ভারতের চেয়ে বাংলাদেশ যোজন যোজন দূরে!’

তিনি বিশ্বের উন্নয়ন সংস্থাগু'লোর কাছ থেকে বিভিন্ন দেশের আর্থিক সাহায্য গ্রহণের কিছু চিত্র তুলে ধরে সেখানে লেখেন, ‘খয়রাতি বা দানের টাকা হিসেব করলে দেখা যাব'ে ভারতের চেয়ে বাংলাদেশ যোজন যোজন দূরে। বিশ্বের উন্নয়ন সহায়তা প্রতিষ্ঠানগু'লো থেকে আর্থিক সাহায্য পায় (আ’নন্দবাজারের ভাষায় খয়রাতি) এমন দেশগু'লোর মধ্যে টাকার অ'ঙ্কে এ মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি সাহায্যপ্রা’'প্ত দেশটির নাম ভারত, আার বাংলাদেশের অবস্থান ষষ্ঠ। জার্মানির কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি অর্থ সাহায্য যে দেশটি পেয়ে থাকে তার নাম ভারত (পরিমাণ প্রায় ১১৮২ মিলিয়ন ইউএসডি)। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকে অর্থ সাহায্য পাওয়া দেশগু'লোর মধ্যে ভারতের অবস্থান পঞ্চম (পরিমাণ ৪৬৬.৩৭ মিলিয়ন ইউএসডি)। জাপানের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি অর্থ সাহায্য পেয়ে থাকে ভারত (পরিমাণ ২৩৭৬.৪০ মিলিয়ন ইউএসডি)। এছাড়া ফ্রান্স ও হা'ঙ্গেরি থেকেও মো’টা অ'ঙ্কের সাহায্য পেয়ে থাকে দক্ষিণ এশিয়ার বৃ'হত্তম এ দেশটি।’ সাইফুল আলম চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্র ম’ন্ত্রণালয় ও স’রকারের উচিত আ’নন্দবাজারের এমন আচরণের প্র’তিবাদ জানানো। এমন অ’পমানজনক সংবাদের জন্য কৈফিয়ত তলব করা।’ সাংবাদিক লুৎফর রহমান কাকন তার ফেসবুকে লেখেন, ‘আ’নন্দবাজার পত্রিকা’টা আমি নিয়মিত পড়ি। ভাল লাগে। তবে এই রিপোর্টটি পড়ে মনে হচ্ছে রিপোর্টার ক্ষুব্দ। চীন কেন বাংলাদেশকে ছাড় দিচ্ছে? পারলে তিনি সেটা বন্ধ করে দিতেন। রিপোর্টের শুরুটাই করেছেন প্র’ডন্ড হাহাকার নিয়ে। খয়রাতি শব্দটা অবশ্য ভারতের স’'ঙ্গে যায়।’

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category
News Bulletin © All rights reserved 2021
Develper By ITSadik.Xyz