1. [email protected] : admi :
  2. [email protected] : admin admin : admin admin
  3. [email protected] : atayur :
  4. [email protected] : Toufiq Hassan : Toufiq Hassan
  5. [email protected] : News Reporter :
আফগান সরকারের কঠোর অবস্থান, ঝুঁকিতে মার্কিন-তালেবান চুক্তি
সোমবার, ২৭ জুন ২০২২, ১১:০৮ পূর্বাহ্ন

আফগান সরকারের কঠোর অবস্থান, ঝুঁকিতে মার্কিন-তালেবান চুক্তি

Desk Report
  • Update Time : শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২০
  • ১৮৩ Time View

মা'র্কিন-তালেবান ‘শান্তি আলোচনা’ ছিল দীর্ঘ ও কঠিন, কিন্তু মা'র্কিন-তালেবান চুক্তির পর যে ‘আন্ত:আফগান’ শান্তি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, সেটা দেখা যাচ্ছে আরও বেশি কঠিন।

তবে, আন্ত:আফগান আলোচনার বি'ষয়টি যে এখন কঠিন বি'ষয় হয়ে উঠছে, সেটা শুধু আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ জটিলতার কারণে হচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রের যদিও আফগানিস্তান থেকে সরে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, এর পরও তারা সবকিছু এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে চায় যাতে ‘যু'দ্ধ পরবর্তী’ পরিস্থিতিতেও সেখানে তাদের উল্লেখযোগ্য প্রভাব বজায় থাকে।

অন্যভাবে বললে, আফগানরা আজ যে ‘সংলাপের স্থবিরতার’ মুখোমুখি হয়েছে, সেটার বড় কারণ হলো অন্তত তিনটি প্রধান পক্ষের মধ্যে ক্ষমতার সংগ্রামটা এখানে দ্রুত প্রকাশিত 'হতে শুরু করেছে। এই তিন পক্ষ হলো: যুক্তরাষ্ট্র, তালেবান আর আফগান অ'ভিজাত শ্রেণী।

আফগান অ'ভিজাত শ্রেণী আবার নিজেদের মধ্যে বিভক্ত। ঘানি-আব্দুল্লাহর বিভেদ ছাড়াও বহু আফগান যু'দ্ধ কমাণ্ডার এবং রাজনৈতিক বিরোধী পক্ষ রয়েছে, যারা বিভিন্ন সময়ে কাবুল ও তালেবানদের ব্যাপারে তাদের অবস্থান বদলের মাধ্যমে আলোচনার উপর প্রভাব ফেলছে।

একদিকে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র যারা তালেবানদের সাথে চুক্তির বাস্তবায়ন দেখতে চায়। যুক্তরাষ্ট্রের ভবি'ষ্যৎ ভূ-রাজনীতি এই চুক্তির উপর নির্ভর করছে। তাদের বর্ধিত আঞ্চলিক নীতিও এর উপর নির্ভর করছে, যেটাকে এখন ‘মধ্য এশিয়া কৌশল’ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।

এই চুক্তির ভবি'ষ্যৎ অবশ্য এই মুহূর্তে নির্ভর করছে প্রথম শর্ত পূরণের উপর, পারস্পরিক আস্থা তৈরির জন্য যে ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র আর তালেবানরা একমত হয়েছে। সেটা হলো ব'ন্দি বিনিময়।

কাবুলের অনীহার কারণ হলো তাদের নিজস্ব রাজনীতি – যেখানে তারা তালেবানদেরকে কোনভাবেই আফগান রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ নিতে দিতে চায় না। কিন্তু তাদের অবস্থানটা এখন যুক্তরাষ্ট্র-বিরোধী অবস্থানে রূপ নিয়েছে।

আফগান অ'ভিজাত শ্রেণীর পেছনে বিপুল বিনিয়োগের পর যুক্তরাষ্ট্র এখন তাদের বিপক্ষে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এখন তাদেরকে এ বছর এবং আগামী বছর সহায়তা কাটছাট করার হু’মকি দিয়েছে। আর আফগানিস্তানের বাজেটের ৮০ শতাংশই বিদেশী সহায়তার উপর নির্ভরশীল।

গু'রুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো: আফগান সরকার কেন চুক্তি অনুযায়ী চলছে না?

যুক্তরাষ্ট্র যদিও কাবুলকে শান্তি প্রক্রিয়া এবং তালেবানদের সাথে দর কষাকষির বি'ষয়ে ‘অবগত’ করেছে, কিন্তু কাবুল কখনও আনুষ্ঠানিকভাবে শান্তি প্রক্রিয়ার অংশ ছিল না। শুধু তালেবানদের প্রত্যাখ্যানের কারণেই যে কাবুলকে প্রক্রিয়ার বাইরে রাখা হয়েছিল, তা নয়, বরং ঘানি সরকারের কোন বৈধতাও ছিল না। তার সরকারের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল এবং নির্বাচনের সময়ও অনেকবার পেছানো হয়েছিল।

কাবুল যদিও ‘যৌ'থ ঘোষণার’ অধীনে চুক্তিকে সমর'্থন দিয়েছিল, এবং চুক্তির অংশ না হয়েও এটাকে তারা এগু'তে দিয়েছিল কারণ এভাবেই ক্ষমতাসীন ঘানি সরকারের স্বার্থ রক্ষিত হয়েছিল। এখন তারা যেটা নিশ্চিত করতে চায় সেটা হলো তালেবানরা যা চাইবে, তার পুরোটাই যেন তারা না পায়।

বর্তমান ক্ষমতাসীন ‘পশতুন সরকার’ একইসাথে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ নিজের কাছে রাখতে চায়। আফগানিস্তানের দ্বিতীয় বৃ'হত্তম জাতিগত গ্রুপের সাথে বা অন্যান্য ছোট জাতিগত গ্রুপগু'রোর সাথে সেটা ভাগাভাগি করাটা তাদের জন্য কঠিন, যদিও তারা অব্যা'হতভাবে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির’ বুলি আওড়ে যাচ্ছে।

তালেবানদের বিরু'দ্ধে একটা ‘শক্ত অবস্থান’ ধরে রেখেছে কাবুল এবং ঘানির উদ্দেশ্য হলো তার সরকারকে রাজনৈতিকভাবে অ'পরিহার্য হিসেবে তুলে ধ’রা। সেই অনুসারে, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আব্দুল্লাহকে তালেবানদের সাথে শান্তি প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দেয়ার প্রস্তাব দিয়ে তিনি শুধু একটা ‘অন্তর্ভুক্তিরই’ বার্তা দিতে চাচ্ছেন না, একই সাথে সরকারের বৈধতাকেও পোক্ত করতে চাচ্ছেন। নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজের জায়গাটা অক্ষুণ্ণ রাখতে চান।

আব্দুল্লাহকে মনোনয়ন দেয়ার ঘানির ঘোষণাটি লোভনীয়, কারণ তিনি প্রস্তাব দিয়েছেন যে: “তার (আব্দুল্লাহ) প্রটোকল হবে ভাইস প্রেসিডেন্টের প্রটোকল পর্যায়ের, তার নিরাপত্তা, বাজেট, তার সি'দ্ধান্ত গ্রহণের বি'ষয় – সব কিছু নিয়ে আলোচনা 'হতে পারে। আমা'দের এখানে পুরোপুরি নমনীয়তা রয়েছে”।

তালেবানরা জানে যে, কাবুল যে রাজনৈতিক খেলা খেলছে, সেটা তাদের ‘বিলম্বিত করার কৌশল’ যেটার মাধ্যমে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করতে চায় তারা। কাবুলের সাথে ব'ন্দি বিনিময় আলোচনা থেকে তাদের বেরিয়ে আসার সি'দ্ধান্তের মাধ্যমে বোঝা গেছে যে, তারা ওয়াশিংটনের মাধ্যমে কাবুলের উপর চাপ দিতে চায়। পুরো শান্তি চুক্তিকে বাতিল করার হু’মকি দিয়ে তালেবানরা এখন বল ওয়াশিংটন আর কাবুলের কোর্টে ঠেলে দিয়েছে।

মা'র্কিন পররাষ্ট্র দফতরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বি'ষয়ক ব্যুরোর প্রিন্সিপাল ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অ্যালিস ওয়েলস সাম্প্রতিক এক টুইটে ই'ঙ্গিত দিয়েছেন যে, আফগানিস্তানে আন্তর্জাতিক সহায়তা দেয়ার বি'ষয়টি সেখানে একটি ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার’ গঠনের সাথে জড়িত। এতে বোঝা গেছে যে, কাবুলের রাজনৈতিক খেলা এমনকি ওয়াশিংটনের কাছেও ক্রমেই অগ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছে।

ওয়াশিংটনের কাবুল-বিরোধী অবস্থান যদিও তালেবানদের সাথে একই পক্ষে ঠেলে দেয়, কিন্তু এতে কোন সন্দে'হ নেই যে শুধুমাত্র তাদের এই অবস্থানের কারণে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোন রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছানো যাব'ে না।

ঘানি যে একজন নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট – যদিও তার প্রতিপক্ষরা এটাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে যাচ্ছে – তবে এই বি'ষয়টির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে তাকে পুরোপুরি এড়িয়ে যাওয়াটা কঠিন হয়ে গেছে।

কাবুল এখানে যেহেতু এখন সক্রিয় পক্ষ, তাই যুক্তরাষ্ট্র আর তালেবান উভয়কেই এখন তাদের স্বার্থ ও অবস্থানকে হিসাবে নিতে হবে। যদিও মা'র্কিন-তালেবান চুক্তি মানতে কাবুল পুরোপুরি অস্বীকার করলে বা মা'র্কিন-তালেবান চুক্তিকে বদলানোর চেষ্টা করলে তার চরম নেতিবাচক পরিণতি 'হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র এটা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এ ধরনের পদ'ক্ষেপ নিলে বিদেশী সহায়তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাব'ে, ফলে তালেবানদের হাতে পতনের দ্বারপ্রান্তে চলে যাব'ে কাবুল।

পাকিস্তান সেনাপ্রধানের কাবুল সফর, পায়ের নিচে মাটি হারাচ্ছে ভারত

৯ জুন কাবুলে পাকিস্তান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল কমর' জাভেদ বাজওয়াকে স্বাগত জানাচ্ছেন আফগান হাই কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ড. আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহ

আফগানিস্তানে ভারত কেন বড় খেলোয়াড় হিসেবে আবির্ভূ'ত 'হতে পারছে না। খবর সাউথ এশিয়ান মনিটরের। এর একটি গু'রুত্বপূর্ণ কারণ হলো সেখানে পাকিস্তানের ব্যাপক প্রভাব এবং যেভাবে তারা নিজেদেরকে সেখানে কেন্দ্রীয় ভূমিকায় নিয়ে গেছে এবং যেভাবে তারা যুক্তরাষ্ট্র আর তালেবানদের মধ্যে মধ্যস্থতা করেছে।

পাকিস্তানের চিফ অব আর্মি স্টাফ জেনারেল কমর' জাভেদ বাজওয়ার সাম্প্রতিক ও আগের অঘোষিত কাবুল সফরগু'লো আফগান সমঝোতার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের প্রধান ভূমিকা'টা তুলে ধরেছে – যে সমঝোতা প্রক্রিয়াটা শুধু অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজনই নয়, বরং মহা'মা'রীর কারণেও বড় ধরনের আঘা'তের মুখে পড়ে গেছে।

জেনারেল বাজওয়ার সফর একইসাথে এটাও দেখিয়েছে যে, পাকিস্তান কিভাবে আবারও ‘আফগান অভ্যন্তরীণ’ আলোচনায় নিজেদেরকে কেন্দ্রীয় ভূমিকায় নিয়ে যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র যেখানে সম্প্রতি ভারতকে আফগান ‘উচ্চ টেবিলে’ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছে, যাতে তারা কাবুলকে দোহা চুক্তি মেনে চলার ব্যাপারে বোঝাতে পারে, সেখানে জেনারেল বাজওয়ার এই সফরের গু'রুত্ব আরও বেশি।

এই ধরনের প্রচেষ্টা জোরালো 'হতে সবসময়ই ব্যর্থ হবে, কারণ এখানে ভারতের দিক থেকে তালেবানদের ব্যাপারে বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তনের বি'ষয় জড়িত রয়েছে।

পাকিস্তান তাৎক্ষণিকভাবে আফগানিস্তানে তাদের অবস্থানকে কাজে লাগাচ্ছে এবং এমনকি আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহর মাধ্যমে দেশটির রাজনৈতিক নেতৃত্বের সাথে সরাসরি যোগাযোগ আরও জোরালো করছে। এতে বোঝা গেছে যে, পাকিস্তান এ অঞ্চলে শান্তি চায়;

আফগানিস্তানকে আঞ্চলিক উন্নয়ন ও সমৃ'দ্ধির অংশীদারিত্বের মধ্যে নিয়ে আসতে চায় এবং সেখানে এমন একটা রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করতে চায় যেখানে সবগু'লো জাতিগত গ্রুপের প্রতিনিধিত্ব ও ভূমিকা থাকবে। তবে এতে এটাও বোঝা গেছে যে, পাশের দেশে যে কোন ভাবে ভারতের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগটাও পাকিস্তানের মধ্যে রয়ে গেছে।

জেনারেল বাজওয়ার সাম্প্রতিক সফরে তালেবান বন্দীদের মুক্তি, আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহর পূর্ণ সমর'্থন নিশ্চিত করা, তালেবানদের রাজনৈতিক কাঠামোর অধীনে নিয়ে আসার প্রয়োজনীয়তা, আফগান শরণার্থীদের প্রত্যাব'াসন, এবং মহা'মা'রীর বিরু'দ্ধে ঐক্যব'দ্ধ লড়াইয়ের বি'ষয়সহ সবগু'লো গু'রুত্বপূর্ণ বি'ষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

এতে বোঝা গেছে যে, পাকিস্তান থমকে যাওয়া শান্তি প্রক্রিয়াকে নতুন করে শুরু করতে এবং এটাকে চূড়ান্ত রাজনৈতিক সমাধানের দিকে নিয়ে যেতে সাহায্য করছে।

আফগানিস্তানের টেবিলে ভারতকে ফিরিয়ে আনলে তাতে কোন লাভ হবে না – এমন একটা বার্তাও সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রকে দিতে চেয়েছে পাকিস্তান। তবে আলোচনার বি'ষয়গু'লো থেকে বোঝা যাচ্ছে যে, আফগানিস্তানে পাকিস্তানের সংশ্লিষ্টতা সেখানকার অন্যান্য গ্রুপের বিপরীতে তালেবানদের ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে ‘ভারতকে অন্তর্ভুক্তির’ একমাত্র এজেন্ডার মধ্যে সীমাব'দ্ধ নয়।

বরং পাকিস্তান সেখানে একটা সত্যিকারের শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, যেটা শুধু একতরফা তালেবান আধিপত্যের আফগানিস্তান গড়ে ওঠার আশঙ্কাকেই প্রশমিত করছে না, বরং আফগানিস্তানে মা'র্কিন আধিপত্যের অবসানের বি'ষয়টিও নিশ্চিত করছে, যে দাবিটি শুধু তালেবানদের নয়, বরং আফগানিস্তানের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মধ্যে গভীরভাবে প্রোথিত রয়েছে।

তাছাড়া, কাবুলের নেতৃত্বের সাথে জেনারেল বাজওয়ার আলোচনার বি'ষয়বস্তু থেকে বোঝা গেছে যে, পাকিস্তান শুধু আফগানিস্তানে মা'র্কিন যু'দ্ধ শেষ করার ব্যাপারে বা তালেবানদের সমন্বিত করার ব্যাপারেই আগ্রহী নয়, বরং তারা মূলত যু'দ্ধ এবং এর সাথে জড়িত বিভিন্ন ইস্যুগু'লোর সমাধান করতে চায়।

এর মধ্যে রাজধানী ইসলামাবাদ এবং পাকিস্তানের অর্থনৈতিক কেন্দ্র করাচিতে বসবাসরত বহু মিলিয়ন আফগানদের প্রত্যাব'াসনের বি'ষয়টিও রয়েছে।

এর সাথে সম্পর্কিত হলো আফগানিস্তানের অর্থনৈতিক সমৃ'দ্ধির বি'ষয়ের পাকিস্তানের গু'রুত্বারোপ। এ বি'ষয়টি বাস্তবায়িত হলে সেটা দেশটির অর্থনৈতিকভাবে দরিদ্র পরিস্থিতির উত্তরণে গু'রুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, যে দারিদ্রের কারণে আফগান শরণার্থীরা এখন দেশে ফিরতে চায় না।

অন্যভাবে বললে, বিশেষ মা'র্কিন দূত খলিলজাদ চেয়েছিলেন নয়াদিল্লীর মাধ্যমে কাবুলকে ‘চাপ’ দিতে, যাতে কাবুল শান্তি প্রক্রিয়ার সাথে লেগে থাকে এবং সেখান থেকে বিচ্যুত না হয়। কিন্তু ভারতের পরস্পরবিরোধী জবাবের কারণে যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত উপলব্ধি করেছে যে কাবুল এবং তালেবান উভয়ের সাথে কথা বলে শান্তি প্রক্রিয়াকে পুনরু'দ্ধার করার মতো অবস্থায় নয়াদিল্লী নেই।

অন্যদিকে বিভিন্ন আফগান পক্ষের কাছে পৌঁছানোর সক্ষমতা রয়েছে পাকিস্তানের। সেটা বোঝা গেছে যখন জেনারেল বাজওয়া শুধু আশরাফ ঘানির সাথেই বৈঠক করেননি, বরং আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহর সাথেও বৈঠক করেছেন এবং সেখানে ৫০০০ ব'ন্দিকে মুক্তি দেয়ার জন্য তালেবানদের প্রধান দাবির বি'ষয়টির উপরও জোর দিয়েছেন (কাবুল এ পর্যন্ত প্রায় ৩,০০০ বন্দীকে মুক্তি দিয়েছে)।

একই সাথে পাকিস্তান অতীতে আফগানিস্তানের আশেপাশের প্রতিবেশী – চীন, রাশিয়া ও ইরানের সাথে বিনিময় করে এসেছে, ভারত যেটা করেনি। শুধু তাই নয়, পাকিস্তান বরং এই প্রতিবেশী দেশগু'লোর সাথে তালেবানদের বর্তমান সম্পর্ক তৈরির ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে যাতে সঙ্ঘা'ত নিরসনে একটা সার্বিক আঞ্চলিক কৌশল গ্রহণ করা যায়।

এ বি'ষয়ে জেনারেল বাজওয়ার জোর দেয়ার কারণে পাকিস্তানের ব্যাপারে যে ধারণা রয়েছে যে, তারা এককভাবে আফগানিস্তানের সমস্যার সমাধান করে দেশটিকে নিজেদের একক নিয়ন্ত্রণে আনতে চায়, সেই ভুল ধারণা মূলত কে'টে গেছে।

এটা স্পষ্ট যে পাকিস্তানের উদ্দেশ্য হলো আফগানিস্তানের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ – যুক্তরাষ্ট্র, তালেবান, কাবুল – সবার সাথে আলোচনা করা এবং সেটা তারা করছে, যাতে দোহাতে সম্পাদিত শান্তি চুক্তিটি জীবিত থাকে এবং সফলতার সাথে বাস্তবায়িত হয়।

কিছু দেশ পাকিস্তানকে ‘তালেবানদের বন্ধু’, ‘স'ন্ত্রাসবাদের প্রশ্রয়দাতা’ এবং ‘আফগানিস্তানের শত্রু’ হিসেবে যেভাবে চিত্রিত করেছে, সেটার কোন সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না এবং বাস্তব চিত্রের সেটা সম্পূর্ণ বিপরীত।

আসলে এই যুক্তিটাকে ব্যবহার করেই কিছু দেশ বারবার এফএটিএফ বৈঠকে পাকিস্তানকে গ্রে'-লিস্টে অন্তর্ভুক্ত রাখার চেষ্টা চালিয়ে এসেছে, যদিও তারা কালোতালিকাভুক্ত করতে পারেনি।

জেনারেল বাজওয়ার সফর এবং সেখানে যে বি'ষয়গু'লো উত্থাপিত হয়েছে, সেখান থেকে বোঝা গেছে যে, পাকিস্তানকে যেভাবে সাধারণত চিত্রিত করা হয়, বাস্তবে আফগানিস্তানের ব্যাপারে সম্পূর্ণ ভিন্ন দৃষ্টিভ'ঙ্গি রয়েছে তাদের। এটা সত্য যে আফগানিস্তানে যথেষ্ট গভীরভাবে জড়িয়ে পড়েছে তারা।

পাকিস্তান এককভাবে তালেবান আধিপত্যের আফগানিস্তানও চায় না, আবার এমন দেশও চায় না, যেখানে সবসময় যু'দ্ধ লেগে থাকবে এবং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা বিরাজ করবে। আফগানিস্তানের এই ধরনের পরিস্থিতিটা পাকিস্তানের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।

ভারতের আচরণের পুরোপুরি বিপরীতে গিয়ে পাকিস্তান সক্রিয়ভাবে শান্তি প্রক্রিয়াকে জীবিত রাখার চেষ্টা করছে। নিজেকে আঞ্চলিক পরাশক্তি হিসেবে দাবি করে আসলেও ক্ষমতার সাথে যে দায়িত্ব আসে, তার এক বিন্দুও দেখাতে পারেনি ভারত।

বিভিন্ন প্রকাশ্য ও গো'পন পন্থায় তারা বারবার শান্তি প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করেছে, সঙ্ঘা'তকে বাঁচিয়ে রাখার পথ বেছে নিয়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তানকে দেয়াল হিসেবে ব্যবহার করে নিরাপদে থেকেছে।

কিন্তু নিরাপদে থাকার চিন্তা বাদ দিয়ে পাকিস্তান এখানে সরাসরি এবং দ্বিধাহীনভাবে সমস্যা সমাধানে মনোযোগ দিয়েছে। তালেবান, কাবুলের কর্তৃপক্ষ এবং সেখানে সংশ্লিষ্ট সবগু'লো পক্ষের মধ্যে শান্তি প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের জন্য ইসলামাবাদ সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। আফগান শান্তিকে এখন আর দূরের হাতছানি বলে মনে হচ্ছে না।

যুক্তরাজ্যে বর্ষসেরা চিকিৎসক বাংলাদেশি ফারজানা

যুক্তরাজ্যের বর্ষসেরা চিকিৎসক (জিপি অব দ্য ইয়ার) মনোনীত হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূ'ত ফারজানা হুসেইন।

যুক্তরাজ্যে প্রতিবছর জেনারেল প্র্যাকটিসের জন্য এই পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। খবর দ্যা পালস ডট ইউকের।

পূর্ব লন্ডনের নিউহ্যামে বসবাসকারী ফারজানা হুসেইন গত ১৮ বছর ধরে স্থানীয় পর্যায়ে এই খেতাব পেয়ে আসছিলেন।

এবার তিনি জাতীয় পর্যায়েও জিপি (জেনারেল প্রাক্টিসনার) বা বর্ষসেরা চিকিৎসক মনোনীত হলেন। পুরস্কারটি প্রদান করেছে যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা বি'ষয়ক সংস্থা দ্য ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস)।

এনএইচএসএর ৭২ বছর পূর্তি উদযাপন করেছে ব্রিটেন, সে সময়ই ঘোষিত হলো ফারজানার নামটিও।

ফারজানা হুসেইন গত ৩ বছরে নিউহ্যামের স্থানীয় চিকিৎসা কমিটিতে ছিলেন। সেইস'ঙ্গে নিউহ্যামের জেনারেল প্র্যাকটিস ফেডারেশনের বোর্ড ডিরেক্টরের দায়িত্বও পালন করে আসছেন।

এ ছাড়া তিনি যুক্তরাজ্যের এনএপিসির কাউন্সিল সদস্য। সম্প্রতি তিনি প্রাথমিক কেয়ার নেটওয়ার্কের জন্য একজন ক্লিনিক্যাল পরিচালক হিসাবে নিয়োগ পেয়েছেন।

এন এইচ এস এর সেরা চিকিৎকসকদের সম্মান জানাতে তাদের ছবি দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় বিলবোর্ড স্থাপন করেছে।

সেই বিলবোর্ডে বিভিন্ন বিভাগে সেরা ঘোষিত অন্য আরো ১২ জন চিকিৎসকের সাথে স্থান পেয়েছে বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত এই চিকিৎসক ফারজানা হোসেনের ছবি।

স্থানীয় একটি পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাতকারে ফারজানা বলেন, হুসেন ইস্টার্ন আইকে বলেছিলেন যে তিনি ‘ওষুধের আশেপাশেই বেড়ে উঠেছেন’ কারণ তার বাবা ছিলেন ডাক্তার এবং বড়দিনের দিন হাসপাতালের ওয়ার্ডগু'লিতে তার পিতার, সাথে তিনি গিয়েছেন পাঁচ বছর বয়সী হিসাবে, আমি তার সাথে এসেছি এবং নার্সরা আমাকে দেওয়া চকোলেটগু'লি আমি উপভোগ করেছি এবং আমি যখন একটি ছোট মেয়ে ছিলাম তখন ওয়ার্ডের সমস্ত রোগী দেখেছিলাম।

আমা'র কিশোরী বয়সে মা খুব অসুস্থ ছিলেন। এবং প্রথম বর্ষের মেডিক্যাল ছাত্র থাকা অবস্থায় তার মা মা'রা যান। এটি আমাকে কেবল চিকিত্সা অধ্যয়ন করতে নয় রোগীদের সত্যিকারের সেবা করার জন্য অনুপ্রাণিত করেছিল।

ফারজানা জানান, লন্ডন থেকে আড়াই শ মাইল পথ পাড়ি দিয়ে তিনি কার্ডিফের সাউথ ওয়েলসের ইউনিভার্সিটি অফ ওয়েলস, কলেজ অফ মেডিসিন থেকে লন্ডনে আসতেন তার মায়ের সাথে দেখা করতে।

যিনি শেষ পর্যায়ের হৃদরোগে আ'ক্রা'ন্ত হয়ে হাসপাতালে ছিলেন। তাকে সত্যিই অসুস্থ লাগছিল। আমি নিশ্চিত ছিলাম না যে আমি তাকে ছেড়ে মেডিক্যাল স্কুলে ফিরে যাব', বা থাকব কিনা।

তিনি বললেন, তোমাকে অবশ্যই ফিরে যেতে হবে। আমি চাই তুমি একজন ডাক্তার হয়ে মানুষকে সহায়তা করো। আমি ঠিক হয়ে যাব'। অথচ পাঁচ দিন পরে তিনি মা'রা যান।

‘প্রায় দুই দশক পরে এসে ও আমি জানি না আমি আমা'র মায়ের সেই ইচ্ছার যোগ্য 'হতে পেরেছি কি না। তবে আমি প্রতিনিয়ত চেষ্টা করছি আমি যখন আমা'র রোগীদের দেখাশোনা করি তখন আমি মনে করি তারা কারও পরিবার।’

উল্লেখ্য, ১৯৭০ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান থেকে স্কলার'শিপ নিয়ে হিসাবে ব্রিটেনে এসেছিলেন ডাক্তার ফারজানার বাবা। এরপর থেকে তাদের পরিবার ব্রিটেনেই বসবাস করে আসছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category
News Bulletin © All rights reserved 2021
Develper By ITSadik.Xyz