1. [email protected] : admi :
  2. [email protected] : admin admin : admin admin
  3. [email protected] : atayur :
  4. [email protected] : Toufiq Hassan : Toufiq Hassan
  5. [email protected] : News Reporter :
ঢাকা বোর্ডে প্রথম হওয়া মেডিকেল শিক্ষার্থী এখন ৫০ টাকার দিনমজুর!
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন ২০২২, ০১:৩৪ অপরাহ্ন

ঢাকা বোর্ডে প্রথম হওয়া মেডিকেল শিক্ষার্থী এখন ৫০ টাকার দিনমজুর!

Desk Report
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২০
  • ১৫৮ Time View

রাজকুমা'র শীল নামের স'ঙ্গেই রাজা রাজা ভাব। চেহারায় রয়েছে সেই ছাপ। মেধার খেলায় চমক দেখিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি 'হতে পাড়ি দিয়েছেন বেশ কয়ে’কটি কঠিন ধাপ। অবশেষে স্বাস্থ্য বিড়ম্ব’নায় যাত্রা থেমে যায় তার।

রাজকুমা'র এখন ৫০ টাকার দিনমজুর! রাজকুমা'র দিনাজ’পুরের বিরামপুরের বাসিন্দা। ঢাকা বোর্ড থেকে বিজ্ঞান বিভাগে সম্মিলিত মেধা তালিকায় উচ্চ স্থান পেয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন। তবে স্বাস্থ্য বিড়ম্বনায় জীবনের করুণ পরিণতিতে পড়েন তিনি।

সেই বিড়ম্বনা এড়াতে পারলে হয়ত তিনি 'হতে পারতেন মানবসেবার অন্যতম সেরা পেশার একজন মানুষ। তার অবিশ্বা'স্য মেধার অর্জন ও করুণ পরিণতির কথা ‘আমা'দের বন্ধু রাজকুমা'র শীল’ নামের একটি লেখায় তুলে ধরেন ডা. বেলায়েত হোসেন ঢালী।

তিনি জানান, বিরামপুর উপজে'লা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহিঃবিভাগে কয়েকজন মেডিকেল অফিসার ডিউটি রুমে ছিলেন। রোগী আসা প্রায় শেষের দিকে। এমন সময় প্রায় ৭০ বছর বয়সী এক বৃ'দ্ধা আসলেন। স'ঙ্গে ছিলেন ৫২ আর ৪৮ বছরের দুই ছেলে। সমস্যার কথা জানতে চাইলে বৃ'দ্ধার হাতে থাকা কাগজগু'লো এগিয়ে দেন।

ওই বৃ'দ্ধা বলেন, ছেলেদের জন্য প্রতিব'ন্ধী ভাতার দরখাস্ত করবেন। অনেক কাগজের স'ঙ্গে পাবনা মানসিক হাসপাতালের দুটি ছাড়পত্র পেলেন চিকিৎসকরা। প্রথমে কে রোগী বুঝতেই পারেননি তারা। পরে বৃ'দ্ধা দুই ছেলের জন্যই দরখাস্ত করবেন বলে জানান।

দুইজনেরই একই রোগ। পরে একজনের জাতীয় পরিচয়পত্রের স্বাক্ষর দেখে কিছুটা আশ্চর্য হলেন ডা, বেলায়েত। পরিচয়পত্রে নাম লেখা ছিল রাজকুমা'র শীল। হাতের লেখার স'ঙ্গে চেহারার মিল পাচ্ছিলেন না তিনি। সুন্দর লেখা দেখে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আপনি কতদূর পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন’।

রাজকুমা'র শীল এ সময় ডা. বেলায়েতকে জানান, তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্র ছিলেন। তখন ডা. বেলায়েত নিজের কানকে বিশ্বা'স করাতে পারছিলেন না। একে একে সব ঘটনা বললেন। রাজকুমা'র কে-৪০ ব্যাচের ছাত্র ছিলেন।

ঢাকা কলেজ পাস করে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি হয়েছিলেন। দ্বিতীয় প্রফেশনাল পরীক্ষায় ফার্মাকোলজিতে অকৃতকার্য হলেও কয়েকবার পরীক্ষা দেন। তারপর মানসিক অসুস্থতার (সিজোফ্রেনিয়া) জন্য বাড়ি ছাড়া ছিলেন ১৪ থেকে ১৫ বছর। ওই সময় একটি কারখানায় কাজ করতেন। পাবনার হাসপাতালেও ভর্তি ছিলেন এক বছর।

রাজকুমা'র শীলের মা পার্বতী রাণী শীল জানান, প্রাথমিক ও জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় বৃত্তি অর্জন করেছিল রাজকুমা'র। তার বাবা নরসুন্দর হলেও চার ছেলে মধ্যে তিন ছেলেকে নিজের পেশায় আনেননি।

এখন রাজকুমা'র ওষুধ খাওয়ায় মেডিকেলের পড়াশোনার কথা মনে করতে পারে। ডা. বেলায়েত আরো জানান, অনুমতি নিয়ে রাজকুমা'র শীলের একটি ছবি তুললেন। কে-৪০ ব্যাচের এক শিক্ষকের ছবি দেখিয়ে বললেন চিনতে পারেন কিনা? রাজকুমা'র মাথা দোলালেন।

এদিকে রাজকুমা'রের ভাইয়ের একই রোগ। তিনি রাজধানীর তিতুমীর কলেজ থেকে এইচএসসি পাসের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। তবে অসুস্থতার কারণে স্নাতক সম্পন্ন হয়নি তার। আর রাজকুমা'র এখন একটি ভূষি কারখানায় কাজ করে ৫০ টাকা মজুরি পান।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category
News Bulletin © All rights reserved 2021
Develper By ITSadik.Xyz