1. [email protected] : admi :
  2. [email protected] : admin admin : admin admin
  3. [email protected] : atayur :
  4. [email protected] : Toufiq Hassan : Toufiq Hassan
  5. [email protected] : News Reporter :
রিজেন্টের সাহেদের আওয়ামী পরিচয়ও ভুয়া
বুধবার, ১০ অগাস্ট ২০২২, ০৫:৩৫ অপরাহ্ন

রিজেন্টের সাহেদের আওয়ামী পরিচয়ও ভুয়া

Desk Report
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২০
  • ১৭২ Time View

রিজেন্ট হাসপাতালে করো'না পরীক্ষা ও চিকিৎসার নামে জালিয়াতির অ'ভিযোগে র‌্যাব'ের ভ্রাম্যমাণ আ'দালতের অ'ভিযানের পর প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মো. সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমের বি'ষয়ে প্রতারণাসহ নানা তথ্য উঠে আসছে। গত সোমবার থেকে অনেক ভুক্তভোগী ফোন করে এবং সরাসরি র‌্যাব'ের কাছে তাঁর অ'পকর্মের অ'ভিযোগ জানিয়েছে।জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ আ'ত্মসাৎ এবং সুবিধা পাওয়ার জন্য কয়েক বছর ধরেই সাহেদ ভুয়া নাম-পরিচয় ব্যবহার করতেন। এভাবে রিজেন্ট গ্রুপসহ কিছু প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার হয়ে তিনি মো. সাহেদ নামে নিজে মিডিয়া ব্যক্তিত্ব এবং আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছিলেন। তিনি নিজেকে আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বি'ষয়ক উপকমিটির সদস্য পরিচয় দিলেও নেতারা জানিয়েছেন, এ পরিচয়টিও ভুয়া।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, একটি নামসর্বস্ব সংবাদপত্রের মালিক হয়ে সেই পরিচয় কাজে লাগিয়ে সরকার ও প্রশাসনের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের স'ঙ্গে ছবি তোলেন তিনি। তদবির করে টিভি টক শোতে অংশ নিয়ে সরকারের পক্ষে কথা বলে আওয়ামী লীগের একনিষ্ঠ কর্মী সাজার চেষ্টাও করেন।ত'দন্তকারীরা বলছেন, বহুরূপী সাহেদ আগে বিভিন্ন নাম-পরিচয়ে যেভাবে জালিয়াতি করেছেন সেভাবেই সুশীল ক্ষমতাধর পরিচয়টিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে জালিয়াতি চালিয়ে যাচ্ছিলেন। র‌্যাব'ের ত'দন্তে এবার তাঁর সব কু'কীর্তি সামনে চলে এসেছে।অ'ভিযানের সময় থেকেই গাঢাকা দিয়েছেন সাহেদসহ রিজেন্টের ৯ কর্মকর্তা। গতকাল বুধবার ভোরে মিরপুরের রিজেন্ট হাসপাতালের শাখাটিতেও তালা দিয়ে পালিয়ে গেছেন সেখানকার কর্মীরা। বিকেলে সেটি সিলগালা করে দেন র‌্যাব'ের ভ্রাম্যমাণ আ'দালত।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ম'ঙ্গলবার মিরপুরের শাখায় কিছু করো'না রোগী থাকায় অ'ভিযানে সিলগালা না করে রোগী স্থানান্তর করতে বলা হয়।

এদিকে গতকাল রিজেন্টের গ্রে''প্তার আট' কর্মীর মধ্যে সাতজনকে পাঁচ দিন করে রি'মান্ডের আদেশ দিয়েছেন ঢাকার মহানগর হাকিম আ'দালত।আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বি'ষয়ক উপকমিটির সাধারণ সম্পাদক ড. শাম্মী আহমেদ গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, সাহেদ কমিটির সদস্য নন। কমিটি এখনো অনুমোদন পায়নি। অনুমোদনের জন্য দলের সভাপতি শেখ হাসিনার কাছে যে তালিকা দেওয়া হয়েছে সেখানে সাহেদের নাম নেই।শাম্মী আহমেদ বলেন, ‘সদস্য হওয়ার একটি প্রক্রিয়া আছে। আপনার অবশ্যই একটি ডকুমেন্ট (চিঠি) থাকতে হবে। তিনি কখনো সদস্য ছিলেন না। তিনি কোনো ডকুমেন্ট (সদস্য পদ বি'ষয়ে) দেখাতে পারবেন না।’বার্তা সংস্থা ইউএনবি জানায়, ডা. শাম্মী কিছু বৈঠকে অন্য অনেকের মতো মো. সাহেদের উপস্থিত থাকার কথাও বলেছেন। তবে এই উপস্থিতির অর্থ এই নয় যে তিনি কমিটির সদস্য।

একটি সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বি'ষয়ক আগের উপকমিটির কয়েক নেতার স'ঙ্গে সাহেদ ঘনিষ্ঠভাবে মেশার চেষ্টা করেন। তাঁদের মাধ্যমে গিয়ে দলের শীর্ষ নেতাদের স'ঙ্গে ছবিও তোলেন। বিএনপির আমলে যোগাযোগমন্ত্রী নাজমুল হুদা, স্বাস্থ্যমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও হাওয়া ভবনসংশ্লিষ্ট অনেকের স'ঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

গতকাল র‌্যাব'ের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম সাংবাদিকদের বলেন, ‘রিজেন্ট হাসপাতালে অ'ভিযান চালাতে গিয়ে আমর'া কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে অ্যানাকোন্ডা (বৃহদাকৃতির হিং'স্র সা'প) পাই। যখন আমর'া অ'ভিযান শুরু করেছি তখন থেকেই তিনি (সাহেদ) গাঢাকা দিয়েছেন। তিনি তাঁর মোবাইলগু'লো বন্ধ করে রেখেছেন। প্রথম দিন দেখেছিলাম ফেসবুকে ছিলেন, কিন্তু এখন তিনি সব কিছু থেকেই নিষ্ক্রিয়। আশা করছি দ্রুত তাঁকে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে সক্ষম হব। তাঁর বি'ষয়ে অন্যান্য সংস্থাও সতর্ক রয়েছে। আশা করছি তিনি দেশের বাইরে পালিয়ে যেতে সক্ষম হবেন না।’

সারওয়ার বিন কাশেম আরো বলেন, ‘সরকারের স'ঙ্গে বিনা মূল্যে করো'না চিকিৎসার চুক্তি স্বাক্ষরের নামে আসলে হঠকারিতা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। তারা রোগীদের বিপুল পরিমাণ বিল দিতে বাধ্য করেছে। পাঁচজন সদস্যের একটি পরিবার গত ২০ দিনে দুই লাখ ৭০ হাজার টাকা রিজেন্টের কর্মচারী পলা'শকে দিয়েছে বলে জানতে পেরেছি। রিজেন্ট হাসপাতাল ১০ হাজার টেস্ট করেছে। এর মধ্যে সাড়ে চার হাজার টেস্টের কাগজ আমা'দের হাতে রয়েছে। সরকারের কোনো সংস্থা এ ধরনের রিপোর্ট তৈরি করেনি বলে জানতে পেরেছি। রিজেন্টের কম্পিউটার অ'পারেটর আমা'দের বলেছে, চেয়ারম্যান নিজে ব্যক্তিগতভাবে এসব করিয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটি তিন মাসে আড়াই থেকে তিন কোটি টাকা নিয়েছে। সেসব উৎস এবং কোথায় গেছে তা খতিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজনে তাঁর বিরু'দ্ধে মানি লন্ডারিংয়ে মা'মলা দায়ের করা হবে।’সাহেদের ব্যাপারে সারওয়ার বিন কাশেম বলেন, ‘মিথ্যাকে কেন্দ্র করেই তাঁর উত্থান। ভুয়া পরিচয় দিয়ে নানাভাবে প্রতারণা করেছেন মানুষের স'ঙ্গে। তিনি একটা এমএলএম কম্পানি খুলে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছিলেন, যার জন্য জেলও খেটেছেন। আমর'া জানতে পেরেছি তাঁর নামে-বেনামে আরো অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিক লাইসেন্সও নেওয়া হয়নি। উল্লেখ করতে চাই, প্রতিদিন নানা জায়গা থেকে অসংখ্য ফোন রিসিভ করছি, তারা সাহেদের অ'পকর্ম-অরাজকতার বি'ষয়ে জানাচ্ছে।’ প্রতারণার ধরন সম্পর্কে র‌্যাব'ের লে. কর্নেল সারওয়ার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিভিন্ন গু'রুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের স'ঙ্গে ছবি তুলেই তিনি প্রতারণা করতেন। প্রতারকদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। সাহেদ সব সময় মিথ্যা তথ্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করে আসছিলেন, আসলে তাঁর কোনো পরিচয় নেই।’

র‌্যাব'ের ত'দন্ত কর্মকর্তারা জানান, তিনি যখনই যার স'ঙ্গে পরিচিত হয়েছেন, তাকে কখনো আর্মির মেজর, কখনো কর্নেল পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর বিভিন্ন আইডি কার্ড, বিভিন্ন নামে র‌্যাব' পেয়েছে। সেই আইডি কার্ডেও তিনি প্রতারণা করেছেন। সেখানে লিখেছেন ভিন্ন ভিন্ন নাম। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর অফিসের নাম করেও প্রতারণা করেছেন।

সূত্র জানায়, ২০০৯ সালে প্রতারণার অ'ভিযোগে পু'লিশ ও র‌্যাব' তাঁকে গ্রে''প্তার করেছিল। তখন নাম ছিল সাহেদ করিম। ওই মা'মলার কাগজপত্রে দেখা যায়, খুলনার একটি টেক্সটাইল মিলের জন্য দুই টনের ১০টি ও দেড় টনের ১৫টি এসি সরবরাহের কার্যাদেশ পেয়েছিল সাহেদ করিমের প্রতিষ্ঠান। যে প্রতিষ্ঠান থেকে এসব পণ্য কিনেছিলেন তাদের ১৯ লাখ টাকার চেক দিয়েছিলেন রাইজিং শিপিং অ্যান্ড ট্রে'ডিং কম্পানি এবং রাইজিং রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের চেয়ারম্যান সাহেদ করিম। অ্যাকাউন্টে টাকা না থাকায় চেকটি প্রত্যাখ্যাত হয়। জুলফিকার আলী ভুট্টো নামে ফেনীর এক ভুক্তভোগী র‌্যাব'ের কাছে অ'ভিযোগ করেছেন, সাহেদের মালিকানাধীন রিজেন্ট কেসিএস পূর্বাচল প্রজেক্টে বালু সরবরাহের কাজ পেয়েছিল তাঁর প্রতিষ্ঠান রুসাফা কনস্ট্রাকশন। সিলেট থেকে বালু সরবরাহের পর সাহেদ তাঁর পাওনা ৪২ লাখ ৫৭ হাজার ৫৫৯ টাকা দেননি। উল্টো একদিন অফিসে ডেকে নিয়ে স'ন্ত্রাসীদের দিয়ে পেটানো হয়। এরপর ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে সই নিয়ে মেরে গু'ম করে ফেলার হু’মকি দেন। গত বছরের ৩১ অক্টোবর এ ঘটনায় উত্তরা পশ্চিম থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন ভুট্টো।

র‌্যাব' ও পু'লিশ সূত্রে জানা যায়, বছর তিন-চার আগে সাহেদ নিয়মিত পু'লিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কক্ষে ঘোরাঘুরি করতেন। তদবির করে টিভি টক শোতে আলোচক হিসেবে উপস্থিত থেকে নিজের প্রভাব বাড়িয়েছেন। ‘নতুন কাগজ’ নামের একটি পত্রিকার মালিক ও সম্পাদক হয়েছেন। নিজেকে উত্তরা মিডিয়া ক্লাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবেও পরিচয় দিয়ে থাকেন।গতকাল বিকেলে মিরপুরে রিজেন্ট হাসপাতালের শাখা সিলগালা করার পর র‌্যাব'ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম বলেন, ‘এখানে ২২ জন রোগী থাকায় ম'ঙ্গলবার সিলগালা না করে রোগী স্থানান্তরের কথা বলে আমর'া চলে যাই। রাতের মধ্যেই রোগী সরিয়ে তারা তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে গেছে। রিজেন্টের মিরপুর শাখাটিও করো'না রোগীর চিকিৎসায় প্রতারণা করেছে। ২০১৮ সালে মিরপুরের এই হাসপাতালে অ'ভিযান চালিয়ে আট' লাখ টাকা জরিমানা করে সতর্ক করে দিয়েছিলাম।’

সাত আ'সামির রি'মান্ড : উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি তপন চন্দ্র সাহা বলেন, করো'না টেস্ট না করে রোগীদের জাল রিপোর্ট দেওয়া, প্রতারণা, অর্থ আ'ত্মসাৎসহ বিভিন্ন অ'ভিযোগে রিজেন্ট হাসপাতালের ১৭ জনের বিরু'দ্ধে র‌্যাব' মা'মলা করেছে। র‌্যাব'ের হাতে আট'ক আট'জনকে গ্রে''প্তার দেখিয়ে গতকাল ঢাকার মহানগর হাকিম আ'দালতে হাজির করে সাত দিনের রি'মান্ড আবেদন করেন ত'দন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক আলমগীর গাজী। মহানগর হাকিম হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আহসান হাবীব (১), হেলথ টেকনিশিয়ান আহসান হাবীব (২), হেলথ টেকনোলজিস্ট হাতিম আলী, রিজেন্ট গ্রুপের প্রকল্প প্রশাসক রকিবুল ইসলাম, মানবসম্পদ কর্মকর্তা অমিত বণিক, গাড়িচালক আবদুস সালাম ও হাসপাতালের কর্মী আবদুর র'শিদ খান জুয়েলের পাঁচ দিনের রি'মান্ড মঞ্জুর করেন। হাসপাতালের অভ্যর্থনাকারী কামর'ুল ইসলামের বয়স কম হওয়ায় তাকে কারা'গারে আট'ক রাখার আবেদন করেন মা'মলার ত'দন্ত কর্মকর্তা। তাকে গাজীপুরের শিশু (কিশোর/কিশোরী) উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ দেন আ'দালত।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category
News Bulletin © All rights reserved 2021
Develper By ITSadik.Xyz