1. [email protected] : admi :
  2. [email protected] : admin admin : admin admin
  3. [email protected] : atayur :
  4. [email protected] : Author :
  5. [email protected] : Toufiq Hassan : Toufiq Hassan
  6. [email protected] : News Reporter :
করোনা মোকাবিলায় বিশ্বকে চমকে দিলো ভিয়েতনাম
রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ন

করোনা মোকাবিলায় বিশ্বকে চমকে দিলো ভিয়েতনাম

Desk Report
  • Update Time : রবিবার, ১৭ মে, ২০২০
  • ১৯৫ Time View

মহা'মা'রি করো'নাভাইরাস প্রতিরোধে বিশ্বের অনেক আধুনিক দেশ যেখানে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে, সেখানে সফলতার স'ঙ্গে ভাইরাসটির সংক্রমণ প্রতিরোধ করে অনন্য নজির গড়েছে ভিয়েতনাম। করো'নার উৎপত্তিস্থল চীনের পাশেই দেশটির অবস্থান হওয়ার পরও করো'নার তেমন কোনো সংক্রমণের ঘটনা ঘটেনি দেশটিতে।

৯ কোটি ৭০ লাখ জনসংখ্যার দেশটিতে করো'নাভাইরাসে আ'ক্রা'ন্তের সংখ্যা মাত্র ৩০০-এর কিছু বেশি। মৃ'তের সংখ্যা শূন্য। সেখানে কমিউনিটি ট্রান্সমিশনের পর প্রায় এক মাস কে'টে গেছে। লকডাউন শেষে সবকিছু আবার খুলতে শুরু করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘বাড়তি’ পদ'ক্ষেপ নেয়ার কারণেই ভাইরাস মোকাবিলায় এতটা সফল হয়েছে ভিয়েতনাম। তারা বলছেন, অন্যান্য দেশে এখনও সংক্রমণ ও মৃ'ত্যু ব্যাপক মাত্রায় বাড়ছে। কিন্তু ভিয়েতনাম গোড়ার দিকে সংক্রমণের হার যখন কম ছিল, তখনই দ্রুত পদ'ক্ষেপ নিয়েছে এবং পুরো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে ফেলেছে। তবে এর জন্য অনেক শ্রম ব্যয় করতে হয়েছে। মূল্যও দিতে হয়েছে। যে ধরনের কঠোর পদ'ক্ষেপ তারা নিয়েছিল, তার নেতিবাচক দিকও ছিল।

সবচেয়ে বড় কথা হলো বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন ভিয়েতনামের এই সাফল্য থেকে অন্য দেশগু'লোর শিক্ষা নেয়ার জন্য অনেক দেরি হয়ে গেছে। অন্য দেশগু'লো সেই সুযোগ মিস করে গেছে। এখন এসব দেশে সংক্রমণ ক্রমশই বাড়ছে এবং তা চূড়ায় পৌঁছনোর পথে রয়েছে।

ভিয়েতনামের হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির স্বাস্থ্য গবেষণা বি'ষয়ক অংশীদার সংস্থার ড. টড পোলাক বলেন, ‘যখন এ ধরনের অজানা ও সম্ভাব্য বিপদজনক একটা জীবাণুর বিরু'দ্ধে আপনি লড়াইয়ে নেমেছেন, তখন বাড়াবাড়ি প্রতিক্রিয়া অনেক ভালো।’

এই ভাইরাস স্বল্প পরিসরে ছড়ালেও দেশটির স্বাস্থ্য ব্যবস্থা বড় ধরনের চাপের মুখে পড়বে; এটা আঁচ করতে পেরে ভিয়েতনাম কর্তৃপক্ষ গোড়াতেই ভাইরাস ঠেকাতে ব্যাপক পরিসরে উদ্যোগ নেয়। জানুয়ারি মাসের শুরুতে, যখন দেশটিতে একজনেরও ভাইরাসটি শনাক্ত হয়নি, তখনই ভিয়েতনাম সরকার ‘চরম পর্যায়ে পদ'ক্ষেপ’ নেয়া শুরু করে দেয়। রহস্যময় নতুন এই নিউমোনিয়া রোগে তখন উহানে মা'রা গেছে মাত্র দুই জন। সেই পর্যায়ে তাদের প্রস্তুতির শুরু।

জানুয়ারি মাসের ২৩ তারিখে সেখানে প্রথম রোগী শনাক্ত হয়, যখন উহান থেকে এক ব্যক্তি তার ছেলেকে দেখতে হো চি মিন সিটিতে যান। ভিয়েতনাম তখন থেকেই শুরু করে দেয় তার জরুরি পরিকল্পনার বাস্তবায়ন।হো চি মিন সিটিতে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির ক্লিনিক্যাল রিসার্চ ইউনিটের পরিচালক অধ্যাপক গাই থোয়েটস ভিয়েতনাম সরকারের সংক্রা'মক ব্যাধি কর্মসূচির স'ঙ্গেও যুক্ত। তিনি বলেন, ‘ভিয়েতনাম এত দ্রুত পদ'ক্ষেপ নিতে শুরু করে যা তখন মনে হয়েছিল বেশি বাড়াবাড়ি। কিন্তু পরে দেখা গেছে সেটা সুবিবেচনার কাজই ছিল।’

ভিয়েতনাম এমন সব পদ'ক্ষেপ নিতে শুরু করে যা নিতে অন্যান্য দেশের সময় লেগে যাব'ে কয়েক মাস। তারা ভ্রমণের ওপর নিষে'ধাজ্ঞা আনে, চীনের স'ঙ্গে সীমা'ন্ত এলাকায় পর্যবেক্ষণ কঠোর করে। কিছুদিনের মধ্যে সীমা'ন্ত পথে চলাচল পুরো বন্ধ করে দেয়। সীমা'ন্ত এবং অন্যান্য নাজুক জায়গাগু'লোতে স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাড়িয়ে দেয়।

জানুয়ারির শেষে চান্দ্র নববর্ষ উপলক্ষে স্কুলগু'লো বন্ধ ছিল। তখনই স্কুলের ছুটি মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়া হয়। কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং অর্থাৎ সংক্রমিত কারও সংস্পর্শে কারা' কারা' এসেছে তা খুঁজে বের করতে ব্যাপক জনশক্তি নিয়োগ করা হয়। প্রচুর পরিমাণ অর্থ ব্যবহার করা হয়।

অধ্যাপক থোয়েটস বলেন, ‘ভিয়েতনামকে আগেও বহু রোগের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা করতে হয়েছে।’ যেমন ২০০৩ সালে সার্স থেকে শুরু করে ২০১০-এর এভিয়ান ফ্লু, এছাড়াও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া হা'ম ও ডে'ঙ্গু'। তিনি বলেন, ‘সরকার এবং দেশটির মানুষ সংক্রা'মক রোগ মোকাবিলায় অনেক অনেক বেশি অভ্যস্ত। ধনী দেশগু'লোর চেয়ে এ ব্যাপারে তারা সম্ভবত অনেক বেশি অ'ভিজ্ঞ। তারা জানে কীভাবে এগু'লো মোকাবিলা করতে হয়।’

মা'র্চ মাসের মাঝামাঝি এসে ভিয়েতনাম দেশটিতে ঢোকা প্রত্যেক মানুষকে এবং দেশের ভেতর পজিটিভ শনাক্ত হওয়া রোগীর সংস্পর্শে আসা প্রত্যেককে ১৪ দিনের জন্য কোয়ারেন্টিন সেন্টারে পাঠিয়ে দেয়। এর খরচের বেশিরভাগটাই বহন করে সরকার। যদিও কোয়ারেন্টিন সেন্টারে থাকার ব্যবস্থা সেভাবে বিলাসবহুল ছিল না। ভিয়েতনামে বাড়ি এমন একজন নারী অস্ট্রেলিয়া থেকে দেশে ফিরে যান সে সময়। কারণ তিনি মনে করেছিলেন, ভিয়েতনামে থাকাই বেশি নিরাপদ হবে।

বিবিসি’র ভিয়েতনাম বিভাগকে ওই নারী বলেছিলেন যে, প্রথম রাতে তাদের শোবার জন্য শুধু একটা মা'দুর দেয়া হয়েছিল। কোনো বালিশ বা কম্বল ছিল না। একটা বড় ঘর যেখানে খুবই গরম ছিল সেখানে দেওয়া হয়েছিল মাত্র একটা পাখা। অধ্যাপক থোয়েটস বলছেন, ব্যাপক পরিসরে মানুষকে কোয়ারেন্টিনে পাঠানো এই সাফল্যের পেছনে একটা বড় কারণ। কেননা যত মানুষ সংক্রমিত হয়েছিল তথ্য প্রমাণে দেখা গেছে তাদের অর্ধেকের রোগের লক্ষণ ছিল না, কিন্তু তাদের শরীরে ভাইরাস ছিল। অর্থাৎ তারা ছিল যাদের বলা হচ্ছে ‘অ্যাসিম্পটোমেটিক’ ।

কোয়ারেন্টিনে যাদের নেয়া হয়েছিল, তাদের সবাইকে পরীক্ষা করা হয়েছিল, তারা অসুস্থ হোক বা না হোক। অধ্যাপক থোয়েটস বলেন, পরীক্ষা করা না হলে ভিয়েতনামে নিশ্চিতভাবে শনাক্ত রোগীদের শতকরা ৪০ ভাগ জানতোই না যে তাদের শরীরে ভাইরাস রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এখন জীবাণু বহনকারী (অ্যাসিম্পটোমেটিক) রোগীর সংখ্যা যদি এতো বেশি হয়, তাহলে নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে করণীয় একটাই, যেটা ভিয়েতনাম করেছে।’অধ্যাপক থোয়েটস বলেন, ‘এদের ভেতরে যদি আট'কে রাখা না 'হতো, তাহলে এরা বাইরে ঘুরে বেড়াতো এবং অন্যদের সংক্রমিত করতো।’ আর দেশটিতে একজনও মা'রা না যাব'ার পেছনে এটাই ব্যাখ্যা। বাইরে থেকে যারা সে সময় ভিয়েতনামে ফিরছিল তাদের বেশিরভাগই ছিল শিক্ষার্থী, পর্যটক, অথবা ব্যবসার কারণে ভ্রমণকারী। এরা বয়সে অ'পেক্ষাকৃত তরুণ এবং তাদের স্বাস্থ্য সমস্যা সেভাবে ছিল না।

ফলে এদের নিজেদের পক্ষেই ভাইরাসের বিরু'দ্ধে লড়াই করার ভাল সক্ষমতা ছিল। আর তাদের পক্ষে বয়স্ক কোন আ'ত্মীয়কে এই ভাইরাসে সংক্রমিত করার সুযোগ ছিল না। ফলে দেশটির স্বাস্থ্য সেবা ব্যবস্থা অল্প কিছু সংখ্যক গু'রুতরভাবে অসুস্থ হয়ে পড়াদের চিকিৎসায় মন দিতে পেরেছিল। ভিয়েতনামে দেশজুড়ে কখনই লকডাউন দেয়া হয়নি। কিন্তু কোথাও গু'চ্ছ সংক্রমণের খবর আসলেই কর্তৃপক্ষ তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে।

ফেব্রুয়ারি মাসে হ্যানয়ের উত্তরে সন লই এলাকায় হাতে গোণা কয়েকজন সংক্রমিত হবার পরই ওই এলাকা ও আশপাশের ১০ হাজারের বেশি মানুষকে অবরু'দ্ধ করে ফেলা হয়। একই পদ'ক্ষেপ নেওয়া হয় রাজধানীর কাছে হা লই নামে আরেকটি এলাকায় যেখানে অবরু'দ্ধ করে রাখা হয় ১১ হাজার মানুষকে। একটি হাসপাতালকেও রোগী ও কর্মীসহ অবরু'দ্ধ করে রাখা হয়। এই অবরোধ ভেঙে কাউকে দুই স'প্তাহ পর্যন্ত বেরতে দেয়া হয়নি যতক্ষণ না তারা পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছেন যে, সেখানে আর একজনও সংক্রমিত রোগী নেই।

সূত্র: বিবিসি

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category
News Bulletin © All rights reserved 2021
Develper By ITSadik.Xyz